বাগেরহাটে খান জাহান আলী (রহ) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের হামলার শিকার ফাতেমা (৭) বছর শিশুর ক্ষত বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ফাতেমা আক্তারের মরদেহ আজ মঙ্গলবার ২ জুন ভোরে মহিলা ঘাট সংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ১ জুন সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিশুটি কুমিরের হামলার শিকার হয়। এমন খবর পেয়ে খবর আমাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান দীঘিতে উদ্ধার অভিযান চালায়। রাতভর অভিযান চালানোর পর মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী’র মেয়ে ফাতেমা মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামে। এ সময় দিঘিতে থাকা কুমির হঠাৎ শিশুটির ওপর আক্রমণ করে ফাতেমা নামে শিশুটিকে কামড়ে পানির নিচে নিয়ে যায়। এ সময় ফাতেমার চিৎকারে মাজার এলাকায় থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তৎক্ষণাৎ নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, মাজারের খাদেম ও স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে অভিযান চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী মাজারের দোকানদার বীনা বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।