Logo

কুলিয়ারচরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

মিজানুর রহমান পাটোয়ারী
প্রকাশকাল : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
Oplus_131072

কুলিয়ারচরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয় এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পশুর হাটের ইজারা আহ্বান করে। এতে অংশ নিয়ে চলতি বছরের ইজারা লাভ করেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েত উল্লাহ খান। অন্যদিকে, গত বছর একই হাটের ইজারা পেয়েছিলেন ছয়সূতি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. জুয়েল। এবার ইজারা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া সংঘর্ষে আহতরা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েত উল্লাহ খান বলেন, কোরবানি ঈদের গরুর হাটের ইজারা নিয়ে মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত। ইজারার দরপত্রে জুয়েল পক্ষ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আমরা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দরপত্র দিই। বেশি দর দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন আমাদের ইজারা প্রদান করে। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে জুয়েল পক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছয়সূতি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. জুয়েল বলেন, কয়েকদিন আগে ফরিদপুর মাজার এলাকায় আমাদের এলাকার লোকজনের সঙ্গে এনায়েত উল্লাহ খানের লোকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে। আমরা বিষয়টির বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু বিচার না করে উল্টো তারাই আজকের ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে এবং সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, দুইটি পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Theme Created By Khan IT Host