লাউ শীতকালীন সবজি হলেও এখন মাচা পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে বর্ষাকালীন লাউয়ের চাষ। লাউ চাষে সময় এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবার বর্ষাকালীন লাউ চাষ করেছেন উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে কৃষক ইউনুছ মিয়া।
সরেজমিনে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে কৃষক ইউনুছ মিয়ার জমিতে গিয়ে জানা যায়, ১৪ বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে তিনি সবজি চাষ শুরু করেন। তারপর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজেই জমিতে গোবর সার, জৈব সার, ড্যাপ,ও পটাশ সার দিয়ে জমি প্রস্তুত করেন। তারপর রোপণ করেন উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউয়ের চারা। চারা রোপণের দুই মাসের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। তার পর থেকে ধাপে ধাপে তিনবার ফলন আসে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত তিনি লাউ বিক্রি করতে পরেন। তিনি বলেন, ঠিক মতো যদি কেউ কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে লাউ চাষ করে তবে সে লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে তার দুই বিঘা জমিতে মাটি থেকে ৫-৬ ফুট উচু করে বাশের খুঁটি, তার আর সুতলি দিয়ে মাচা তৈরি করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার মতো। আর সেই মাচায় তিনি তুলে দিয়েছেন লাউ। শুধু লাউই নয়, একাধারে তিন থেকে চার বছর ওই মাচায় বেশ কয়েক ধরনের সবজি চাষ করা যায়। ইউনুছ মিয়ার মাচায় দেখা যায় থোকায় থোকায় ঝুলে আছে লাউ। মাচার নিচে দুজন কৃষি শ্রমিক জমির পরিচর্যা করছে। আবার কখনো মাচা থেকে লাউ কর্তন করছেন বাজারে বিক্রির জন্য। প্রতিদিন ত্রিশ থেকে চল্লিশটি করে লাউ কর্তন করছেন। স্থানীয় বাজারের সবজি বিক্রেতারা তার জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বাজার দর আর লাউয়ের আকার অনুযায়ী একেকটি লাউ তিনি বিক্রি করছেন সত্বোর থেকে আশি টাকা করে। প্রতিদিন সকালে জমি থেকে শ্রমিকরা লাউ উত্তোলন করে বাড়ির পাশের বাজারে লাউ বিক্রি করেন। এই লাউ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর কদর রয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি এক লাখ ষাট হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন, আগামী বিশ পঁচিশ দিনে অন্তত লাখ টাকার উপর লাউ বিক্রি করার আশা তার। তার জমির পরিচর্যার করতে পনেরা হাজার টাকা মাসিক বেতনে দুইজন শ্রমিক কাজ করছেন। তাকে দেখে অন্যান্য চাষীরা বর্ষাকালীন সময়ে বিষমুক্ত লাউ চাষে এগিয়ে আসলে সবজির চাহিদাও মিটবে, কৃষকও লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, বর্ষাকালীন লাউ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চাষীরা। কম খরচে অধিক লাভ তাই তারা উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউয়ের আবাদ করছে। আগামীতে এর পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারে সেজন্য কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ আর কৃষি উপকরণ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফসলের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ কৃষকদের পরামর্শ আর ফসলি জমি পরিদর্শন করে থাকেন।
স্থাণীয়রা বলেন,বর্ষা কালে সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হলে তারাও লাভবান হবে ভুক্তারা কমদামে সবজি কিনে উপকৃত হবে।