ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের ৩ দিন ধরে অনাহারে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
*যা ঘটেছে*
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীএর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। গত ৩ দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে পরিবারের ৬ সদস্য, যার মধ্যে ৩ জন শিশু রয়েছে, তারা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।
গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা শুকনো খাবারও শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ খাবার দিতে গেলেও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিশুরা গত ৩ দিন ধরে প্রায় অনাহারে রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ নিজের বাড়িতেই বন্দী। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্না করছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”
মুক্তিযোদ্ধা জাহের মেয়ের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ জায়গা আমাদের রান্নাঘর আমরা আসা যাওয়া করতে পারি না। তিন দিন ধরে আমরা অনাহারে আছি। সাথে তিনটা বাচ্চা আছে ঘরে।
*এলাকাবাসী ও প্রশাসনের ভূমিকা*
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল খোঁজখবর রাখেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, রান্নাঘরটা অন্য বাড়িতে পড়েছে। গ্রামের মেম্বার এর সাথে কথা হয়েছে চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। খুলে দিবে বলেছে। অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও
জানান,তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,বিষয়টা আমরা দেখতেছি। তাদের ঠিকানাটা একটু দিয়েন আমাকে। আমরা ব্যবস্থা নিব।
ও সমাজসেবা অফিসকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান,
আমরা জানি না খোঁজখবর নিব। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।
*মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিক্রিয়া*
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে এমন আচরণ জাতির জন্য লজ্জার। রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত এই পরিবারের নিরাপত্তা ও খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়া।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম জানান, এ জায়গা আমাদের। আমাদের চাকা আমরা প্যারা দিয়েছি। জায়গা আমি কিনে রেখেছি। যদি প্রয়োজন প্যারা খুলে দিব।