স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পুরোদমে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জোর প্রচার-প্রচারণা।
এরই ধারাবাহিকতায় কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করে মাঠ গরম রাখছেন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামুন। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সৈয়দ জহিরুল ইসলাম মনি মিয়ার সুযোগ্য সন্তান, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য।
গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যার পর উপজেলার বাজরা তারাকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় ও গণসংযোগে মিলিত হন তিনি।
মতবিনিময়কালে এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামুনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক ভোগান্তি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নানা চাহিদার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সবার অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন এবং আগামী দিনেও সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন তৃণমূল ও ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামুন কুলিয়ারচরে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলায় অগ্রণী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে এলাকার মানুষের সাথে তাঁর রয়েছে গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক। যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁকে একটি পরিচিত, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, মামুনের মতো একজন রাজপথের লড়াকু সৈনিককে সরাসরি কাছে পেয়ে এবং নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলার সুযোগ পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা মনে করেন, কুলিয়ারচরের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার আদায়ে তাঁর মতো সৎ, যোগ্য ও মানবিক নেতৃত্বের প্রয়োজন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামুনের পক্ষে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও গণজোয়ার ততই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এর আগে একই দিন বিকেলে তিনি কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত প্রবীণ ও সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদকে দেখতে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরস্থ বাসভবনে ছুটে যান। এসময় তিনি চিকিৎসাধীন ওই সাংবাদিকের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান, তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও রাজনৈতিক নেতার এমন মানবিক উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মামুন ও তাঁর সঙ্গে আগত নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আহত সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ বলেন, “দুঃসময়ে মানুষের আন্তরিক খোঁজখবর ও পাশে দাঁড়ানোর অনুভূতি যেকোনো ওষুধের চেয়েও বেশি শক্তি জোগায়।” এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করেন।