দুই পক্ষের সংঘর্ষ ৭ পুলিশসহ আহত ২৫ জন। রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম দখল। ঢাকা- চট্টগ্রাম – সিলেট – ময়মনসিংহ লাইনের ৯টি ট্রেন আটকা পড়েছে ভৈরব স্টেশনের পাশ^বর্তী স্টেশনগুলোতে। সংঘর্ষে নারী পুরুষ শিশু কিশোরসহ যাত্রী আহতসহ নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ পুলিশসহ ২৫ জন আহত। উত্তেজিত পক্ষরা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটর্ফম দখল করে স্টেশন মাস্টারের রুম ভাঙচুরসহ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিসাধন করে। ভাঙচুর আর লুটপাট চালায় প্লাটফর্মের দোকানপাটে। বৃহস্পতিবার ৪ জুন সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত রেলস্টেশন এলাকার আশে পাশে এ সংঘর্ষ
চলছিল। স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী ৩৭ আপ নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭০৩ আপ মহানগর গোধূলি ভৈরব বাজার জংশন আউটারে, ৭১০ ডাউন পারাবত এক্সপ্রেস তাল শহর , ৭২২ ডাউন মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ৭৩৯ উপবন এক্সপ্রেস জিনারদী, ৮১৪ কক্সবাজার এক্সপ্রেস আড়িখোলা, ৭৪৯ এগারসিন্ধু গোধূলি দৌলতকান্দি, নরসিংদী কমিউটার খানাবাড়ি ও ৬০৬ ডাউন মালগাড়ি মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন আটকা পড়ে। এ সময় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সংঘর্ষে পুলিশের এস আই সাইফুল ও আরএনবি সদস্য মুছা মিয়া গুরুতর আহত হয়েছে। অন্য আহতদের নাম জানা যায়নি, তবে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেল পুলিশসহ থানা পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের পাথর নিক্ষেপের কারণে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রাত প্রায় পৌনে একটার সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে রাত একটা পঞ্চাশ মিনিটের সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউছুফ জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ স্টেশনকে রণক্ষেত্র পরিণত করেছে। সংঘর্ষকারীরা স্টেশনের দোকানপাট ভাঙচুর করে। সংঘর্ষ শুরু হলে যাত্রীরা ভয়ে যে যার মতো পারে সেদিকেই দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ বলেন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ ঘটনার সৃষ্টি করে। অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করা যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।